' তারার খোঁজে ' - শিল্পী তারা হাজার মানসীর মুখোমুখি
Global Tribune Desk : বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীদের মধ্যে এক অনবদ্য প্রতিভা মানসী। তিনি মূলত ‘তারা হাজার (মানসী)’ নামেই অধিক পরিচিত। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে আধুনিক, ভক্তিমূলক থেকে বাংলা ও হিন্দি—বিভিন্ন ভাষার মৌলিক গানে সমান পারদর্শী এই শিল্পী। তাঁর ইউটিউব চ্যানেল ঘিরে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার অনুরাগীর এক নিবেদিত সম্প্রদায়।
এক আন্তরিক ঘরোয়া আড্ডায়, ‘গ্লোবাল ট্রিবিউন’-এর সঙ্গে ভাগ করে নিলেন তিনি তাঁর ‘তারা হাজার মানসী’ হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণাময় পথচলার গল্প।
১. আপনি সঙ্গীতের ঠিক কোন দিকটায় বেশি প্রাধান্য দেন—মৌলিক গান, না শাবেকি গান?
মৌলিক গান ও সাবেকি গান দুটোতেই আমি সমান প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করি।
২. পরিচিতির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বহু শিল্পী রিয়্যালিটি শোকে বেছে নিয়েছেন, কেউ বেছে নিয়েছেন স্বনামধন্য রেকর্ড লেবেলগুলোকে, আবার কেউ ভরসা রাখছেন ইউটিউবের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছানোর ওপর। আপনি এই তিনটির মধ্যে কোনটি নিয়ে বেশি আশাবাদী?
সমস্ত প্ল্যাটফর্ম নিজের মতো করে শিল্পীকে এগিয়ে দিয়ে থাকে। আমি মনে স্বনামধন্য রেকর্ড লেবেল খুব ভালো একটা প্ল্যাটফর্ম দিতে পারে।
৩. অনুশীলন ও অধ্যবসায় সঙ্গীতে কতটা প্রয়োজনীয় বলে আপনি মনে করেন?
এটা অবশ্যই, সংগীতজ্ঞ যারা তারাই সঠিক ভাবে বলতে পারবে। আমি সঙ্গীতের ছাত্রী মাত্র। অনুশীলন ও অধ্যাবসা দুটোই আমার মনে হয় দরকার,জাদুকরী কণ্ঠ বা সুরের দখল পেতে প্রতিদিন নিয়ম করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুশীলন করতে হয়। প্রতিদিনের এই চেষ্টাই হলো অধ্যবসা। এটি কণ্ঠকে সুমধুর করে, সুরের নিখুঁত জ্ঞান দেয় এবং মঞ্চে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
৪. ঠিক কী কারণে জনসমক্ষে আত্মপ্রকাশের জন্য 'তারা হাজার' নামটি কেন বেছে নিলেন?
আসলে ' তারা ' আমার ডাক নাম, যেটা পরবর্তীকালে হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, যার ফলে আসল নাম আড়ালেই থেকে যায়, মানুষের প্রসংশায় পছন্দে এই নামটায় থেকে যায় গানের জগতে। তাই আমি এই নাম টা ব্যবহার করি।
৫. আগামী দিনে কী ধরনের গান গাইতে পারলে আপনার ভালো লাগবে?
আমি সব রকম গান সাধ্য অনুযায়ী গাইতে পছন্দ করি। তবে আগামীদিন এ অবশ্যই শাস্ত্রীয় সঙ্গীত গাইতে পারলে খুশি হব।
৬. মঞ্চের আপনি আর বাস্তবের আপনি—ঠিক কতটা আলাদা?
মঞ্চের আমি আর বাস্তবের আমি—এই দুটির মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। মঞ্চের আমি সবার জন্য, স্পষ্ট এবং সাহসী। বাস্তবের আমি শান্ত এবং নিজের মতো থাকতে পছন্দ করি।
৭. আপনার প্রিয় শাবেককালীন, বর্তমান এবং উদীয়মান শিল্পীরা কারা?
শাবেককালীন শিল্পী দের মধ্যে কিংবদন্তি লতা মঙ্গেশকর আমার খুব প্রিয় শিল্পী।
বর্তমান জনপ্রিয় শিল্পী দের অরিজিৎ সিং এবং শ্রেয়া ঘোষাল আমার অত্যন্ত পছন্দের শিল্পী। আর উদীয়মান শিল্পীদের মধ্যে আমার অরুনিতা কাঞ্জিলালের গান খুব ভালো লাগে।
৮. আজকাল প্রায়ই শোনা যায়, ৮ থেকে ৮০—সবার ভালো লাগতে পারে এমন গান নাকি এখন আর তৈরি হয় না। সুযোগ পেলে আপনার কী মনে হয়, আজও তেমন মনে থাকার মতো গান তৈরি করা সম্ভব?
আমি বিশ্বাস করি আজও মনে থাকার মতো গান তৈরি করা সম্ভব। তবে গানের প্রচার ও মানুষের শোনার মাধ্যম বদলেছে। আজকের দিনে প্রচার এর জন্য একটা পদ্ধতি কাজ করে, যেটা নিজে একটা গোটা ইন্ডাস্ট্রি । আজকের দিনে গান ইন্টারনেটের কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া আর টিকে থাকার মাঝখানটাই হল আসল ম্যাজিকের জায়গা। সেই ম্যাজিকের ইন্সুদ্রইজাল বোনে সুর , সুর যদি সহজ হয় ও কথার গভীরতার সাথে মানানসই হয়, তবে তা সব বয়সী মানুষের মনে দাগ কাটে। ভালো গান এখনো মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয় এটা আমি বিশ্বাস করি।
৯. মনের মত প্লেব্যাকের সুযোগ এলে কোন নায়িকার কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারলে আপনি সবচেয়ে আনন্দ পাবেন?
স্পেসিফিক করে কোনও নাম বললাম না, বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে সকলেই অসম্ভব প্রতিভাশালী।মানুষের আবেগ ও সুরের জাদুতে যদি প্লেব্যাক করার সুযোগ পেতাম, তবে আমি বাংলা চলচ্চিত্রের বহুমুখী ও হিন্দি চলচ্চিত্রে নিশ্চয় করব।






Comments
Post a Comment